মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে অবস্থিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে টানা ৯ দিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে করে আশপাশের চা বাগানের লক্ষাধিক শ্রমিক ও তাদের পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
জানা যায়, গত ২৬ মার্চ রাতে মাথাব্যথাজনিত সমস্যায় শমশেরনগর চা বাগানের রবিদাস টিলার বাসিন্দা বাবুল রবিদাসের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মেয়ে ঐশী রবিদাস হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন সকালে তার মৃত্যু হলে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা হাসপাতালে গিয়ে স্টাফদের অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর চালায়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। যদিও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন, তবে চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকায় কোনো চিকিৎসা সেবা দেওয়া যাচ্ছে না।
১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালটি ডানকান ব্রাদার্সের অধীন ১৫টি চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এখানে অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটের কারণে সেবায় সীমাবদ্ধতা দেখা দেয়।
চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রোগীরা বাধ্য হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালসহ অন্যান্য চিকিৎসাকেন্দ্রে ভিড় করছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
স্থানীয় চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন দ্রুত হাসপাতাল চালুর দাবি জানিয়ে বলেন, “ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আগের মতো সব ধরনের চিকিৎসা সেবা চালু করা জরুরি।”
শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন জানান, বিষয়টি ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করছে এবং শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, “হাসপাতাল খোলা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে চিকিৎসকরা উপস্থিত নেই। এ বিষয়ে হেড অফিস থেকে সিদ্ধান্ত আসার অপেক্ষা করা হচ্ছে।”