মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—কুলাউড়া উপজেলার শ্রীপুর (নাছিরাবাদ) গ্রামের মতছির আলীর ছেলে মো. জাকির মিয়া (২৬), মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সৈয়ারপুর এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মো. কাওছার আহমদ (৩৪) এবং সদর উপজেলার গুলবাগ (বেরিরচর) এলাকার নুর মিয়ার ছেলে জসিম মিয়া (৩৬)। 
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ ভোর আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে কমলগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ফাতেমা পারভেজ নিশি (২৯) শ্রীমঙ্গল যাওয়ার উদ্দেশ্যে কমলগঞ্জের বটতলা বাজারে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-ক-০৩-৯৪৯৪) এসে তাকে শ্রীমঙ্গল যাবেন কি না জিজ্ঞাসা করে। তিনি অস্বীকৃতি জানালে গাড়িটি বারবার সামনে-পেছনে ঘোরাফেরা করতে থাকে।
একপর্যায়ে তিনি বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করলে গাড়িটি তাকে অনুসরণ করে তার বাড়ির রাস্তায় ঢুকে পড়ে। গাড়ি থেকে একজন নেমে তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। তবে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই নারী তাদের হাত থেকে ছুটে পালিয়ে নিরাপদে যেতে সক্ষম হন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে কমলগঞ্জ থানায় মামলা (নং–০৭, জিআর–১৯/২৬) দায়ের করা হয়। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৭/৩০ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, পিপিএম এবং শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজুর নির্দেশনায় কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একাধিক টিম তদন্ত শুরু করে। পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিঠু রায়সহ পুলিশের কয়েকটি দল সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে।
তদন্তের একপর্যায়ে গত ১০ মার্চ সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোবহানীঘাট এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সদস্য। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে যে, ভোরের ফাঁকা রাস্তায় একা পেয়ে ওই নারীকে অপহরণ করে ধর্ষণের পরিকল্পনা ছিল তাদের। সিডিএমএস যাচাই করে দেখা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে চুরি ও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় তাদের সহযোগী জাহাঙ্গীর নামে আরও একজন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।