মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১৫টি চা বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলোর একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র ক্যামেলিয়া হাসপাতাল টানা ১৮ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে করে প্রায় লাখো মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন দ্রুত হাসপাতালটি চালুর দাবি জানিয়ে বলেন, অতীতের মতো সব ধরনের চিকিৎসাসেবা ও অপারেশন চালু করতে হবে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক শিশুমৃত্যুর কারণ ও হাসপাতালে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জানা যায়, গত ২৬ মার্চ সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ঐশি রবিদাস (১৩) মাথাব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেন। তবে পরিবারের সদস্যরা রাতে স্থানান্তরে রাজি না হওয়ায় পরদিন সকালে হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে স্থানীয় এক নেতার নেতৃত্বে একদল লোক হাসপাতালে হামলা, ভাঙচুর ও চিকিৎসকদের হেনস্তা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলেও নিরাপত্তাহীনতায় চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হাসপাতাল ত্যাগ করেন। এরপর থেকেই হাসপাতালের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, গত ১২ এপ্রিল শমশেরনগরে চা শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির এক সভায় জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত হাসপাতালটি পুনরায় চালু করা হয়।
চা শ্রমিকদের জন্য হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে একমাত্র নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছিল। নব্বইয়ের দশকে ইংল্যান্ডভিত্তিক ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন এটি প্রতিষ্ঠা করে। এখানে শ্রমিক, তাদের পরিবার ও সংশ্লিষ্টরা নিয়মিত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতেন।
বর্তমানে হাসপাতাল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন চা শ্রমিক পরিবারগুলো। একাধিক নারী শ্রমিক জানান, অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া যেত, কিন্তু এখন তারা সম্পূর্ণ চিকিৎসাবঞ্চিত।
ঘটনার পর ২৯ মার্চ শমশেরনগর চা বাগানে জরুরি বৈঠক হলেও হাসপাতাল চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশনা ছাড়া কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী দ্রুত হাসপাতাল চালুর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক ও ডানকান ব্রাদার্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, হাসপাতালটি আলাদা ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তবে শ্রমিকদের দুর্ভোগের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতাল চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।