শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০১:২১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে চা শিল্পে ধস, কমলগঞ্জে কোটি টাকার ক্ষতি তারেক মিয়ার উদ্যোগে কমলগঞ্জে মে দিবসের ওয়ান ডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত কমলগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনীতে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার ও পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ কমলগঞ্জে ৪ দিন বিদ্যুৎহীনতা বিপর্যস্ত জনজীবন; কুপির আলোয় এসএসসি প্রস্তুতি ঝড়-বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত কমলগঞ্জ, পানিবন্দি বহু পরিবার; অন্ধকারে পরীক্ষা কমলগঞ্জে অসহায় দুই পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন কৃষিবিদ মুঈদ আশিক চিশতী কমলগঞ্জে হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসায় প্রবাসীদের সহায়তা, আরও সহযোগিতার আহ্বান সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘কমলগঞ্জের হালচাল’-এর উদ্বোধন উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত এমপি নাসের রহমানের উদ্যোগে রাজনগর হাসপাতালে নতুন জেনারেটর স্থাপনের সিদ্ধান্ত

কমলগঞ্জের ‘মদিনা ভাই’ আর নেই

রিপোটার : / ৬৮ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

বাঁশির সুরে মানুষকে মুগ্ধ করা এক চেনা মুখ, সবার প্রিয় “মদিনা ভাই” আর নেই। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় বংশীবাদক মদিনা (৭০) গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে নিজ বাড়ি ভেড়াছড়া গ্রামে স্ট্রোকজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুর আগের দিনও তিনি ছিলেন স্বভাবসুলভ প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও নিজ এলাকার পাশের গ্রাম উত্তর বালিগাঁওসহ বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজের সুরের জাদুতে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন। যেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষকে আনন্দ দিয়েই বিদায় নিলেন এই শিল্পী। কিভাবে দর্শকের মন জয় করেন পহেলা বৈশাখের দিন কালের কণ্ঠকে দিয়েছিলেন সাক্ষাৎকার।

দীর্ঘদিন ধরে কমলগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ ছিলেন মদিনা ভাই। বাঁশি বাজিয়ে গান পরিবেশনের পাশাপাশি ছোটখাটো সার্কাস প্রদর্শন ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে বিনোদন ছড়িয়ে দিতেন। তার বিশেষ আকর্ষণ ছিল কয়েনের ম্যাজিক—একটি কয়েন থেকে একাধিক কয়েন তৈরি করার কৌশল, যা শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী দর্শকের কাছে ছিল ভীষণ জনপ্রিয়।
জীবিকার প্রয়োজনে রিক্সা চালিয়ে, কখনো আইসক্রিম, বাদাম কিংবা আচার বিক্রি করতেন তিনি। তবে তার প্রকৃত পরিচয় ছিল ভ্রাম্যমাণ শিল্পী হিসেবে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ ও ক্যামেলিয়া লেকসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ঘুরে ঘুরে বাঁশির সুরে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতেন এবং সেখান থেকেই জীবিকা নির্বাহ করতেন।

স্থানীয়দের কাছে তিনি ছিলেন একেবারেই আলাদা—হাসিখুশি, প্রাণবন্ত এবং সাদা মনের মানুষ। তাকে দেখলেই কেউ বলত, “মদিনা ভাই, একটা বাঁশি বাজান,” আবার কেউ অনুরোধ করত, “একটা সার্কাস দেখান।” তিনি কখনো কাউকে নিরাশ করতেন না; বরং হাসিমুখে সবার আবদার পূরণ করতেন।
তার মৃত্যুতে পুরা জেলা ও নিজ থানা কমলগঞ্জজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

স্থানীয়রা জানান, মদিনা ভাই শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি ছিলেন আনন্দের প্রতীক—যার উপস্থিতি মুহূর্তেই পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তুলত।

একজন নিরহংকার, নিবেদিতপ্রাণ ভ্রাম্যমাণ শিল্পীর এই বিদায় যেন কমলগঞ্জের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করল।
হঠাৎ কমলগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় বংশীবাদক মদিনা ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে খুব খারাপ লাগছে বলে জানান কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান,মৃত্যুর পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে মদিনার পরিবারকে নগদ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করা হয় এবং দরিদ্র এই পরিবারকে সবসময় সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর