মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
গান, আবৃত্তি, নৃত্য আর সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে শ্রীমঙ্গলে উদযাপিত হয়েছে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী ২০২৬। দিনব্যাপী এ আয়োজনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্মের নানা দিক তুলে ধরেন শিল্পী, সাহিত্যপ্রেমী ও সংস্কৃতিকর্মীরা।
জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, শ্রীমঙ্গল শাখার উদ্যোগে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের পর সংগঠনের শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত গান ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ পরিবেশিত হলে পুরো মিলনায়তনে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।
জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, শ্রীমঙ্গল শাখার আহ্বায়ক তমাল চক্রবর্তীর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক পর্ব শুরু হয়। বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী জলি পালের সঞ্চালনায় এবং অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক কল্যাণ দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাস।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সহ-সভাপতি অজয় দেব এবং ভুনবীর দশরথ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ঝলক চক্রবর্তী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে শিক্ষাবিদ, কবি ও সাহিত্যিক দ্বীপেন্দ্র ভট্টাচার্য রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্য, সংগীত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং মানবতাবাদী দর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে এই দুই মহাকবির আদর্শ ও সৃষ্টিকে পৌঁছে দেওয়া সময়ের দাবি।
পরে সংগীত, আবৃত্তি, কবিতা পাঠ ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে রবীন্দ্র-নজরুলের সৃষ্টিশীলতার বহুমাত্রিক রূপ উপস্থাপন করেন স্থানীয় শিল্পীরা। তাদের পরিবেশনায় মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শকরা।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে দিনব্যাপী এ বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।