কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার ) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের সুনছড়া ও ডবলছড়া এলাকায় কৃষিপণ্য জোরপূর্বক লুট, বাজারজাতকরণে বাধা এবং পান গাছ কেটে ফেলার অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন আন্দোলনকারীরা।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে কমলগঞ্জ উপজেলা চৌমুহনী এলাকায় কমলগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের চা-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চা শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত চক্র বর্তমানে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা সুনছড়া ও ডবলছড়া চা বাগান এলাকার নন-ওয়ার্কার শ্রমিকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে বাধা সৃষ্টি করছে এবং জোরপূর্বক কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য করছে।
বক্তারা বলেন, চা বাগানের বিপুল সংখ্যক শ্রমিক নিয়মিত কর্মসংস্থানের বাইরে থেকে নিজেদের ভিটাবাড়ির আশপাশ ও বাগানের পতিত জমিতে পান, লেবুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে বাধা দেয় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে বিক্রি করতে বাধ্য করে। এতে কৃষকরা বাজারমূল্যের এক-তৃতীয়াংশ বা অর্ধেক দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
তারা আরও অভিযোগ করেন, কোনো কৃষক বাজারে সরাসরি বিক্রির উদ্যোগ নিলে বা অন্য ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রির চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা বাধা প্রদান করে। এ ধরনের অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় অনেকের পান গাছ ও অন্যান্য ফলদ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি বাগান ও বসতবাড়িরও ক্ষয়ক্ষতি সাধন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চা শ্রমিক আদিবাসী ফ্রন্টের সভাপতি পরিমল বাড়াইক, আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী, ইউপি সদস্য পারতালি রাজভর, গোপাল গোয়ালা, জনক লাল দেশওয়ারা, লসমি রাণী রাজভর, চা শ্রমিক ও দলিত জনগোষ্ঠীর নেতা সুনীল মৃধা, নারী নেত্রী গীতা রানী কানু, সীতারাম বীন এবং কমলগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রত্যুষ ধর।
বক্তারা বলেন, কৃষকের উৎপাদিত ফসল ও কৃষি সম্পদের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তি বা পরিবারের ক্ষতি নয়, এটি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতি এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে কৃষিপণ্য লুট, জোরপূর্বক কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য করা, পান গাছ ধ্বংস এবং শ্রমিকদের ওপর ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে, অভিযোগের ঘটনায় এলাকায় চা শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা তাদের কৃষিপণ্য ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।