কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে স্কুলছাত্রী মীম আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি সানোয়ার মিয়া এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন সহপাঠী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। ঘটনার ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা না হওয়ায় বৃহস্পতিবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে অংশ নেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী। কর্মসূচিতে মীম আক্তারের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত, প্রধান অভিযুক্ত সানোয়ার মিয়ার দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সোবহান, শিক্ষার্থী সোহানা আক্তার, নেহা আক্তার, সুমন মিয়া ও বেলাল আহমেদ। এছাড়া নিহত মীমের বাবা মনির মিয়া, চাচাতো বোন শরীফা আক্তার, ফুফু আম্বিয়া বেগম, চাচী রেহানা বেগম ও মামা মিলন মিয়াও বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, মীমের মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় জনমনে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সানোয়ার মিয়া মীমকে মানসিকভাবে নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মীম চরম মানসিক চাপে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়।
তারা আরও বলেন, মীমের রেখে যাওয়া ভিডিও বার্তায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। এরপরও তাকে গ্রেপ্তার করা না হওয়া রহস্যজনক। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
জানা যায়, নিহত মীম আক্তার উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কাটাবিল গ্রামের মনির মিয়ার মেয়ে এবং মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সানোয়ার মিয়ার মানসিক নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার ছিল সে। আত্মহত্যার চেষ্টার আগে ধারণ করা একটি ভিডিও বার্তায় মীম তার ওপর চলা নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে।
পরে বিষপান করলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত ২২ মে রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরিবার, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কমর উদ্দিন বলেন, “আসামি কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে না। ফলে তার অবস্থান শনাক্ত করতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে তাকে গ্রেপ্তারে সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।”
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা মীম আক্তারের মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।