শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :

৭ মাসের সন্তান ফিরে পেল ১৩ বছরের কিশোরী মা! 

অনলাইন ডেস্কঃ / ০ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম, এরপর অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ে। মাত্র ১৩ বছর বয়সেই মা হওয়া অনামিকা আক্তার জুঁইয়ের জীবন যেন এক নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। বিয়ের পর জন্ম নেয় তার একমাত্র সন্তান। কিন্তু সন্তান জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই তাকে শিশুসন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে আদালতের আদেশে প্রায় আড়াই মাস পর সাত মাস বয়সী সন্তানকে নিজের জিম্মায় ফিরে পেয়েছেন এই কিশোরী মা।

মঙ্গলবার দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন। শুনানিতে উপস্থিত বিচারক বলেন, শিশুটির সর্বোত্তম স্বার্থ ও মানবিক দিক বিবেচনায় আপাতত সে তার মায়ের কাছেই থাকবে। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, অনামিকা আক্তার জুঁইয়ের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় ২২ বছর বয়সী শাকিল ওরফে শাকিব মিয়ার। পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং অভিযোগ অনুযায়ী, মাত্র ১১ বছর বয়সে জুঁইকে বিয়ে করেন শাকিল। চলতি বছরের শুরুতে তাদের ঘরে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।

জুঁইয়ের অভিযোগ, সন্তান জন্মের কয়েক মাস পর তাকে শিশুটিকে রেখে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর সন্তানকে ফিরে পেতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে গত ১ জুলাই ঢাকার চিফ লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্ত শাকিল ও তার মাকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেও তারা উপস্থিত হননি। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করতে চকবাজার থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের নির্দেশে সোমবার পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে। মঙ্গলবার শুনানি শেষে বিচারক শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন।

শুনানিকালে বিচারক বলেন, প্রথম দিন জুঁইকে দেখে তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি যে তার একটি সন্তান রয়েছে। কারণ, বয়সের দিক থেকে জুঁই নিজেও একজন শিশু।

জুঁইয়ের আইনজীবীর দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তাকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। সন্তান জন্মের পর তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং সন্তানকেও তার কাছ থেকে আলাদা রাখা হয়।

অন্যদিকে অভিযুক্ত শাকিলের দাবি, জুঁই স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে সন্তানকে রেখে নিজেই বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তিনি সন্তানের অভিভাবকত্ব চেয়ে পারিবারিক আদালতেও একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে শুনানিতে উল্লেখ করা হয়।

মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় আদালত শিশুটির স্থায়ী অভিভাবকত্বসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর