মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীরামপুর নয়াবাজারে আল ইকরা ইসলামি কিন্ডারগার্টেনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন মৌলভীবাজারে চুরি যাওয়া দুই গরু উদ্ধার, পিকআপসহ আটক ৪ কমলগঞ্জে ছুটি শেষের ২৬ দিনেও কর্মস্থলে ফেরেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্রীমঙ্গলে বসতঘরের পাশ থেকে বিষধর শঙ্খিনী সাপ উদ্ধার শ্রীমঙ্গলে জালে আটকে পড়া অজগর উদ্ধার, বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন কবি আবদুল হাই ইদ্রিছী সাংবাদিক সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগ প্রসঙ্গে আব্দুল কাইয়ুম রুমনের বক্তব্য কমলগঞ্জে ধলাই নদীতে ঐতিহ্যবাহী পলো বাওয়া উৎসব, মাছ ধরতে মানুষের ঢল শ্রীমঙ্গলে লোকালয় থেকে অজগর উদ্ধার, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত কমলগঞ্জে বসতঘরে আগুন, ১০ হাজার টাকার ক্ষতির অভিযোগ

শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিককে অস্ত্রধারীর ধাওয়ার অভিযোগ, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

রিপোটার : / ৬০ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিক মো. এহসানুল হক ওরফে এহসান বিন মুজাহিরকে আগ্নেয়াস্ত্র বহনকারী এক অজ্ঞাত যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে অনুসরণ ও নজরদারি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে উপজেলার মুসলিমবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওই সাংবাদিক। এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটে শ্রীমঙ্গল শহরের কালিঘাট রোড থেকে মুসলিমবাগের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। মুসলিমবাগ সড়কে প্রবেশের পর ‘ঢাকা মেট্রো ল-১২৮৩’ নম্বরের একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল তাকে অনুসরণ করতে থাকে। তিনি মোটরসাইকেলের গতি বাড়ালে বা কমালে পেছনে থাকা আরোহীও একইভাবে গতি পরিবর্তন করছিলেন বলে জানান তিনি। এ সময় সামনে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় কয়েকজন যুবকও তাকে লক্ষ্য করছিলেন বলে অভিযোগ করেন এহসান।

পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় মুসলিমবাগ এলাকায় লন্ডনপ্রবাসী তুহিন চৌধুরীর ভবনের সামনে মোটরসাইকেল থামান তিনি। সেখানে তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মাহমুদুল হাসান নাঈমের সঙ্গে দেখা হলে বিষয়টি তাকে জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় পেছনে আসা মোটরসাইকেল আরোহী ইঞ্জিন বন্ধ করে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে থাকেন।

শিক্ষক মাহমুদুল হাসান নাঈমের দাবি, ওই যুবকের কোমরের বাম পাশে বেল্টে গোঁজা অবস্থায় পিস্তলসদৃশ একটি আগ্নেয়াস্ত্র দেখতে পান তিনি। যুবকের পরনে থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট ও নেভি ব্লু টি-শার্ট ছিল বলে জানান নাঈম। পরে পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে মোটরসাইকেলের হেডলাইট বন্ধ করে পাশের একটি গলিতে ঢুকে সেখান থেকে সরে যান এহসান।

ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে শ্রীমঙ্গল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার আবেদন করেছেন সাংবাদিক এহসান বিন মুজাহির। আবেদনটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগেও হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ

এহসান বিন মুজাহিরের দাবি, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অতীতেও বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও হয়রানির মুখে পড়েছেন তিনি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে তার বাসভবনের গেটে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় জিডি করা হয়েছিল, যার নম্বর ১৩৫৩।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর কালিঘাট চা বাগান এলাকায় পেশাগত কাজে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল নিয়ে পিছু ধাওয়া করে হামলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় করা জিডির নম্বর ১৫২৯। ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নো ক্যাপশন’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে তাকে হত্যা ও লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় করা জিডির নম্বর ১২৮০।

প্রেস ক্লাবের জরুরি সভা আহ্বান

ঘটনার প্রতিবাদ এবং সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে শ্রীমঙ্গল প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে শনিবার রাতে জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে।

প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ সালাউদ্দিন বলেন, “একজন পেশাদার ও অনুসন্ধানী সাংবাদিককে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অনুসরণ ও নজরদারির অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ও কর্মসূচি নির্ধারণের জন্য জরুরি সভা ডাকা হয়েছে।”

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

তদন্তের আশ্বাস পুলিশের

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “জিডির আবেদনটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ওই যুবককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের টিম কাজ করছে।”

দ্রুত আইনি পদক্ষেপের তাগিদ প্রশাসনের

ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান জানান, সাংবাদিককে অনুসরণ ও নজরদারির অভিযোগের বিষয়ে তিনি থানার ওসির সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি) সঙ্গেও আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অভিযোগে উল্লেখিত অস্ত্রধারী যুবকের পরিচয় ও ঘটনার পেছনের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর