মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ মানেই সবুজে মোড়ানো পাহাড়, চা-বাগানের বিস্তৃতি আর প্রকৃতির নিভৃত সৌন্দর্য। তবে বর্ষা এলে এই জনপদের সৌন্দর্য যেন কয়েকগুণ বেড়ে যায়। মেঘে ঢাকা পাহাড়, বৃষ্টিভেজা বন আর ঝর্ণার উচ্ছ্বসিত জলধারা মিলে সৃষ্টি করে এক অপার্থিব দৃশ্য। আর সেই সৌন্দর্যের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে হামহাম ঝর্ণা।
বর্ষার সময় পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা অসংখ্য জলধারা হামহামের প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। দূর থেকেই শোনা যায় পানির গর্জন, যা বনের নিস্তব্ধতা ভেঙে এক অনন্য আবহ তৈরি করে। ঝর্ণার চারপাশে ছড়িয়ে থাকা ঘন সবুজ গাছপালা, ভেজা পাতার গন্ধ আর কুয়াশার আবরণ পর্যটকদের নিয়ে যায় এক অন্য জগতে।
হামহামের পথে এগোতে হয় পাহাড়ি বন পেরিয়ে। আঁকাবাঁকা ট্রেইল, ছোট ছোট ছড়া, পাখির ডাক আর বনের নির্জনতা ভ্রমণকে করে তোলে আরও রোমাঞ্চকর। পথের প্রতিটি বাঁকে যেন অপেক্ষা করে নতুন কোনো দৃশ্য, নতুন কোনো বিস্ময়।
স্থানীয়দের ভাষায়, বর্ষাকালে হামহামকে কখনো একই রকম দেখা যায় না। কখনো প্রবল স্রোতে ঝর্ণা হয়ে ওঠে দুর্দান্ত শক্তির প্রতীক, আবার কখনো মেঘ আর কুয়াশার আড়ালে রহস্যময় রূপ ধারণ করে। প্রকৃতিপ্রেমী ও অভিযাত্রীদের কাছে এ সময়ের হামহাম তাই সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
ঢাকা কিংবা দেশের অন্য যেকোনো স্থান থেকে প্রথমে শ্রীমঙ্গল বা ভানুগাছ এলাকায় পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশা বা জিপযোগে কমলগঞ্জ হয়ে কলাবন ট্রেকিং পয়েন্টে যেতে হয়। এরপর শুরু হয় মূল অভিযান।
কলাবন থেকে হামহাম ঝর্ণা পর্যন্ত প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা হাঁটতে হয়। বনাঞ্চলের ভেতর দিয়ে পাহাড়ি পথ অতিক্রম করতে হয় বলে স্থানীয় গাইড সঙ্গে রাখা সবচেয়ে নিরাপদ ও সুবিধাজনক।
• পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবার সঙ্গে রাখুন।
• বৃষ্টির মৌসুমে ট্রেকিংয়ের জন্য উপযোগী জুতা ব্যবহার করুন।
• স্থানীয় গাইড ছাড়া গভীর বনে প্রবেশ না করাই ভালো।
• প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকুন।
• প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন।
প্রকৃতির কাছাকাছি কিছু সময় কাটাতে চাইলে বর্ষার হামহাম হতে পারে অনন্য এক গন্তব্য। এখানে পাহাড়, বন, বৃষ্টি আর ঝর্ণার মিলিত সুর যেন প্রতিটি দর্শনার্থীকে মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতির সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলো লেখা থাকে তার নিজের ভাষায়।