রাজধানীর মিরপুরে একটি আবাসিক ভবন থেকে নুরজাহান বেগম (৭২) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি প্রায় সাত থেকে আট দিন আগে মারা গেছেন। দীর্ঘ সময় মরদেহ পড়ে থাকায় এতে পচন ধরেছে।
রোববার (তারিখ) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১২ নম্বর সড়কের একটি বাসায় যায়। পরে সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুরজাহান বেগম তার মেয়ের সঙ্গে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। তবে মা ও মেয়ে পৃথক দুটি কক্ষে বসবাস করতেন। রোববার মেয়েটি মায়ের কক্ষে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে একজন নার্সকে ডাকেন। প্রথমে তিনি ধারণা করেছিলেন, তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
পরে নার্স কক্ষে প্রবেশ করে দেখতে পান, বৃদ্ধা অনেক আগেই মারা গেছেন। দীর্ঘদিন মরদেহ পড়ে থাকায় শরীরে ব্যাপক পচন ধরে এবং কিছু অংশ বিছানায় খসে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় মরদেহে ব্যাপক পচন ধরেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর ঘটনা অন্তত এক সপ্তাহ আগে ঘটেছে।”
স্থানীয়দের ধারণা, বৃদ্ধার মৃত্যুর পরও তার মেয়ে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। একই বাসায় থেকেও দীর্ঘ সময় তিনি মায়ের কক্ষে যাননি বলেও জানা গেছে।
ওসি আরও জানান, মেয়ের আচরণ কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। একই বাসায় অবস্থান করেও তিনি কোনো দুর্গন্ধ টের পাননি বলে জানিয়েছেন, যা তদন্তের অংশ হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, নুরজাহান বেগমের এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের সচিব হিসেবে কর্মরত এবং আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক। তারা কেউ মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন না। মৃত্যুর খবর পেয়ে বুয়েটে কর্মরত ছেলে বাসায় এলেও অপর ছেলে সেখানে উপস্থিত হননি। এছাড়া মেয়ের স্বামীও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।