অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা ও শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে নতুন একটি ইসলামিক অর্থনৈতিক কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ অপু আবুল হাসান। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস,এর ‘থ্রি জিরো’ ধারণার পর তিনি ‘৫-এস’ নামে একটি বিকল্প অর্থনৈতিক মডেল উপস্থাপন করেছেন, যা সুদমুক্ত ও সম্পদভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
ড. অপু আবুল হাসানের প্রস্তাবিত এই মডেল পাঁচটি মূল ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত,শুকুক, শারকাহ, শ্রম, সামান ও সার্ভিস। তার মতে, এই মডেলের মূল দর্শন হলো,“পুঁজি আমানত, শ্রম ইবাদত এবং লাভ অংশীদারিত্ব।”
বড় প্রকল্পে সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তর করার মাধ্যমে পুঁজি সংগ্রহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে স্থানীয় অর্থনীতির ভেতরেই মুনাফার প্রবাহ বজায় থাকে।
জামানতভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীর মধ্যে অংশীদারিত্বভিত্তিক ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এতে পুঁজিহীন কিন্তু দক্ষ উদ্যোক্তাদের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
যাদের পুঁজি নেই কিন্তু দক্ষতা আছে, তাদের শ্রমকে সম্পদ হিসেবে মূল্যায়নের ধারণা দেওয়া হয়েছে। এতে দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
নগদ অর্থের পরিবর্তে কাঁচামাল বা প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার প্রস্তাব রয়েছে, যা বাজারে অতিরিক্ত নগদ প্রবাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি সরাসরি কেনার পরিবর্তে লিজভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ধারণা এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
৫-এস মডেল সুদভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থার পরিবর্তে অংশীদারিত্ব ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেয়। ব্যবসায় লোকসান হলে সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল বা ‘তাকাফুল’ ব্যবস্থার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের পুনরায় দাঁড়ানোর সুযোগ রাখার কথাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সম্পদভিত্তিক ও অংশীদারিত্বমূলক মডেল বাস্তবায়ন করা গেলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন ধরনের কার্যক্রম সৃষ্টি হতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন কাঠামো, নীতিগত সহায়তা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর।
ড. অপু আবুল হাসানের প্রস্তাবিত ‘৫-এস’ মডেল বর্তমানে ধারণাগত পর্যায়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে এর বাস্তব প্রয়োগ ও ফলাফলই নির্ধারণ করবে এটি দেশের অর্থনীতিতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।